আফজাল হোসেন, বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার আসমা ইউনিয়নের উজানগাঁও গ্রামের একটি আদালতে মামলা চলমান জমির তদন্তে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার কবির হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সরেজমিনে তদন্ত না করেই প্রকৃত মালিককে বাদ দিয়ে বিবাদীপক্ষের অনুকূলে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তিনি। এতে জমির প্রকৃত দখলদার মানিক আউয়াল মিয়া ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা আদালত থেকে ৩১৭/২০২৬ নম্বরের একটি দরখাস্ত তদন্তের জন্য বারহাট্টা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়। পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সার্ভেয়ার কবির হোসেনকে।
আউয়াল মিয়ার অভিযোগ, সঠিক তদন্তের জন্য সার্ভেয়ার তার কাছে অর্থ দাবি করেন। কিন্তু তিনি অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্তের অনুরোধ জানান। এরপর তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ না করেই ৯৭ শতাংশ জমি বিবাদী নজরুল ইসলামের দখলে রয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, নজরুল ইসলামের দখলীয় জমি সম্পূর্ণ ভিন্ন স্থানে অবস্থিত এবং তার পরিমাণ ৪৮ শতাংশ। বর্তমানে ওই জমি নিয়ে পূর্বের মালিকের উত্তরাধিকারীদের সঙ্গে বিরোধ চলছে এবং বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জিম্মায় রয়েছে।
এ বিষয়ে আজ সার্ভেয়ার কবির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি যা পেয়েছি, যা বুঝেছি তাই দিয়েছি। আপনার আপত্তি থাকলে নারাজি দেন।”
তখন ভুক্তভোগী তাকে সরেজমিনে তদন্ত না করেই ভুল প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ করলে তিনি পুনরায় একই কথা বলেন এবং পরে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে সংশ্লিষ্ট জমি আউয়াল মিয়াদের পরিবার ভোগদখলে রেখে আসছে। জমিটির মালিকানা সংক্রান্ত একটি দাগ সংশোধনের বিষয়কে কেন্দ্র করেই বর্তমান জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল মিয়া বলেন, “এই জমি আউয়ালের বাবা আইন উদ্দিন প্রায় ৪০ বছর আগে ক্রয় করেছেন। এ বছরও আইন উদ্দিনের সন্তানরাই জমিতে ফসল আবাদ করেছেন।”
এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাগজপত্রগুলো আমাকে পাঠালে আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সার্ভেয়ার কবির হোসেনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিরোনাম রঙ
ব্যাকগ্রাউন্ড
বর্ডার রঙ
শিরোনাম ফন্ট সাইজ
