আফজাল হোসেন, বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় কৃষকদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। সরকারি মূল্যে সার পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এখনও বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন উপজেলার সাত ইউনিয়নের কৃষকরা। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকির অভাবে সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষকরা।
উপজেলায় প্রতিটি ইউনিয়নে দুই থেকে তিনজন করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা থাকার পরও মাঠ পর্যায়ে তাদের কার্যক্রম চোখে পড়ছে না বলেই দাবি কৃষকদের। তারা বলেন, প্রয়োজনের সময় কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না, আর সার কিনতে গেলেই দোকানদাররা বাড়তি দাম দাবি করেন।
১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে চিরাম ইউনিয়নের নৈহাটি বাজারে সরেজমিনে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নন্দন সাহেবকে একটি সারের দোকানে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এ সময় দোকানের বাইরে অপেক্ষমাণ ভাড়ায় চালিত একটি মোটরসাইকেলের চালকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ওই কৃষি কর্মকর্তা মধ্যনগরের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য তাকে ভাড়া করেছেন।
অথচ একই সময়ে বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, “আজ বুধবার, আমাদের অফিসারদের মাঠে কাজ নেই, সবাই অফিসে মিটিংয়ে আছে। নন্দন সাহেবও অফিসেই রয়েছেন।”
সরেজমিনে পাওয়া তথ্য ও কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্যের মধ্যে এমন পরস্পরবিরোধী চিত্র উঠে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি অফিসের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা করছে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, দ্রুত মাঠ পর্যায়ে তদারকি বাড়াতে হবে, সারের দোকানগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং চালু করতে হবে এবং দায়িত্বে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে, যার প্রভাব পড়বে পুরো অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তায়।
