আফজাল হোসেন বারহাট্টা প্রতিনিধি : টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট এই ভয়াল শব্দ এখন আতঙ্ক হয়ে উঠেছে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার কৈলাটি এলাকার ঋষি সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনে। দিনরাত অবিরাম গর্জে চলা পানির স্রোত কেড়ে নিচ্ছে তাদের স্বস্তি, নিরাপত্তা, এমনকি ঘুমটুকুও।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে আশপাশের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। জমি রক্ষার জন্য বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি খাল এখন রূপ নিয়েছে ভয়ঙ্কর স্রোতে। সেই পানি প্রবল বেগে গিয়ে মিশছে কংস নদীতে। কিন্তু এই স্রোতের চাপেই তৈরি হয়েছে নতুন বিপদ।
চারদিন আগে কৈলাটি-কামালপুর সড়কের একটি সেতু ভেঙে পড়ে। সেই ভাঙনের পর থেকে পানির গতি আরও বেড়ে গেছে। আর সেই স্রোতের ধাক্কা এখন এসে পড়েছে ঋষি সম্প্রদায়ের দরিদ্র পরিবারগুলোর ঘরের ওপর।
বিশেষ করে সন্তুষ রবি দাসের বাড়িটি এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে। খালের তীব্র স্রোতে তার ঘরের মাটি সরে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে পুরো বসতঘরটি। রাতে পানির গর্জন শুনে আতঙ্কে ঘুমাতে পারেন না তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা।
সন্তুষ রবি দাস বলেন, “এই শব্দ কোনো প্রাণীর না, পানির শব্দ। মনে হয় যেন ঘরটা এখনই ভেঙে যাবে। ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে খুব ভয়ে আছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
সাবেক ইউপি সদস্য আবুল মনসুর বলেন, সন্তুষ রবি দাসের ঘরটি আজকাল হয়তো ভেঙে যাবে। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
এদিকে, ভয় আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে এই এলাকার ঋষি সম্প্রদায়ের মানুষের। তাদের দাবি, দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যে কোনো সময়।
এই বিষয়টি নিয়ে জানতে আসমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
এখন প্রশ্ন—এই গর্জন থামাতে, এই মানুষগুলোর জীবন বাঁচাতে, কতটা দ্রুত এগিয়ে আসবে প্রশাসন
শিরোনাম রঙ
ব্যাকগ্রাউন্ড
বর্ডার রঙ
শিরোনাম ফন্ট সাইজ
