জাকির আহমেদ, মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধিঃ ছেলের উপবৃত্তি টাকা না পেয়ে মদন উপজেলা শিক্ষা অফিসের সামনে ১৬ জুন ফেসবুকে ক্ষোভ ঝারলেন আমিনুল নামের এক অভিভাবক।
আবার, ১৭ জুন শিক্ষকদের পুনরায় হুমকি দিয়ে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে আরও একটি ভিডিও পোস্ট করলে তা মূহুর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়। এতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ঝুমা আক্তার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
জানা গেছে, আমিনুল ইসলামরের ছেলে আইমান শেখ নেত্রকোনার মদন উপজেলার মাঘান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে। চলতি বছরের জানুয়ারীতে জাহাঙ্গীরপুর মডেল সরকারি বিদ্যালয়ে আইমানকে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি করে তার বাবা। গত সপ্তাহে মডেল স্কুলের শিক্ষকরা অভিভাবক আমিনুল ইসলাম জানান তার ছেলে নিয়মিত উপবৃত্তি পাচ্ছে। কিন্তু উপবৃত্তির টাকা অজানা একটি মোবাইল নম্বরে যাচ্ছে। পরে আমিনুল ক্ষিপ্ত হয় এবং বিচারের আশায় ১৬ জুন উপজলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যান। অফিসে কাউকে না পেয়ে নিজের ফেসবুক একাউন্টে একটি ভিডিও আপলোড করে। ভিডিওতে সে অভিযোগ করে উপবৃত্তির টাকা মাঘান স্কুলের প্রধান শিক্ষক আত্মসাৎ করছে। পরে শিক্ষককে হুমকি দিয়ে উপবৃত্তির টাকা কোথায় গেছে তা বের করবে বলে জানায়।পরবর্তিতে আবারও ১৭ জুন দেশীয় অস্ত্র (দা) হাতে নিয়ে শিক্ষককে দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঝুমা আক্তার জীবনের নিরাপত্তাহনীনতায় ভুগছে।
অভিভাবক আমিনুল ইসলাম জানান, আমার ছেলে প্রথম শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মাঘান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে। আমার স্থীর এনআইডি কার্ড না থাকায় শিক্ষকরা উপবৃত্তিতে আমার ছেলের নাম দেয়নি। এ বছরের জানুয়ারীতে চতুর্থ শ্রেণিতে আমি তাকে জাহাঙ্গীরপুর মডেল স্কুলে ভর্তি করি। গত সপ্তাহে মডেল স্কুলের শিক্ষকরা আমাকে জানায় তিন বছর যাবৎ মাঘান স্কলের আইডি থেকে আমার ছেলে উপবৃত্তি পাচ্ছে। অথচ উপবৃত্তির জন্য গত দু’বছর মাঘান স্কুলের শিক্ষকদের পিছনে ঘুরেছি। কিন্তু কোনো শিক্ষক এ বিষয়ে মুখ খুলেনি। এ বিষয় অভিযোগ দিতে শিক্ষা অফিসে যাই। কাউকে না পেয়ে ক্ষোভে আমি এসব কথা ফেসবুকে বলি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ঝুমা আক্তার জানান, শিক্ষার্থী আইমনের উপবৃত্তির টাকা আরেক জনের মোবাইলে গিয়েছে। আমি তাকে বিষয়টি জানালেও সে ক্ষোভে ফেসবুকে আমাকে হুমকি দেয়। পরে আবার তার আত্মীয় স্বজন আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। এর পরেও নিরাপত্তাহনীনতায় ভুগছি।
মদন উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফাতেমা সুলতানা জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ঝুমা আক্তারের সাথে কথা বলবো।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন করিম জানান, এ বিষয়টি আমি জানি না। আমাকে কেউ অবগতও করেনি।
শিরোনাম রঙ
ব্যাকগ্রাউন্ড
বর্ডার রঙ
শিরোনাম ফন্ট সাইজ
