১ম পর্ব –
গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বছর পেরিয়ে আমাদের রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়,দেশ এখনো একটি গভীর রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, প্রশাসনিক দলীয়করণ এবং গণতান্ত্রিক সংকটের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।
এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ছিল না; বরং এটি ছিল রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনীতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষ, বঞ্চনা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সম্মিলিত বিস্ফোরণ। এ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে কেবল একটি সরকারের পতন ঘটেনি, বরং রাষ্ট্রীয় বৈধতা, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং ক্ষমতার কাঠামো নিয়েও নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে।
স্বাধীনতা-উত্তর রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘসময় ধরে ক্ষমতা আবর্তিত হয়েছে কয়েকটি প্রধান রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সেই ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক কাঠামো প্রথমবারের মতো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস, রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি এবং জনগণের অংশগ্রহণের ধরন নিয়ে নতুন প্রশ্ন সামনে আসে। ( চলবে….)
