নিজস্ব প্রতিবেদক : মানুষের শেষ সম্বল তার মাথা গোঁজার ঠাঁই—একটু ভিটেমাটি। কিন্তু নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার পাইলাটি গ্রামের তিনটি পরিবারের কাছে সেই আশ্রয়টুকুই এখন গভীর আশঙ্কার কারণ। অভিযোগ উঠেছে, একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার দাপটে আজ হুমকির মুখে তিনটি সাধারণ পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন। বিশেষ করে, এই পরিবারগুলোর একটিতে রয়েছে এক শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী সন্তান, যার নিরাপদ আশ্রয়ের একমাত্র জায়গা এই পৈতৃক ভিটে।

ভুক্তভোগী মুমরুজ আলী অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, “আমরা রাস্তার বিরোধী নই। কিন্তু আমাদের রেকর্ডকৃত জমির ওপর দিয়ে কেন জোর করে রাস্তা নিতে হবে? আমাদের এই সামান্য ভিটেটুকু চলে গেলে এই প্রতিবন্ধী ছেলেটাকে নিয়ে আমরা কোথায় দাঁড়াব? ওর ভবিষ্যৎ কী হবে?” অভিযোগ উঠেছে, সাব-কন্ট্রাক্টর লিটন মিয়ার সাথে ভুক্তভোগী পরিবারের পূর্ববিরোধ থাকায় তিনি প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে রাস্তার প্রাক্কলন করিয়েছেন। বাধা দিতে গেলে মিলছে হুমকি-ধমকি। বর্তমানে এক অজানা আতঙ্কে দিন কাটছে পরিবারগুলোর। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী সন্তানটির নিরাপত্তা ও আশ্রয় হারানোর ভয়ে মা-বাবা এখন দিশেহারা।

আদালতের দুয়ারে এক বুক আশা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের প্রশ্ন ৫ কোটি টাকার এই বিশাল প্রকল্পে কি একটি অসহায় প্রতিবন্ধী শিশুর চোখের জলের কোনো দাম নেই? পাশের বাড়ির প্রতিবেশী ফারুক মিয়ার কণ্ঠেও ঝরে পড়ল আক্ষেপ, “সঠিক তদন্ত হলে দেখা যাবে হালটের জায়গা দিয়েই রাস্তা করা সম্ভব। তবে কেন অসহায় এই পরিবারটির ওপর এমন অবিচার?”

মাঠের সীমানায় এখন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দেওয়া বাঁশের বেড়া—যা কেবল জমি নয়, বরং তাদের অস্তিত্ব ও এক প্রতিবন্ধী সন্তানের আশ্রয় রক্ষার লড়াইয়ের প্রতীক। স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাসুম মোস্তফা আশ্বাস দিয়েছেন যেন কোনো অবিচার না হয়। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এই অসহায় পরিবারটি ও তাদের প্রতিবন্ধী সন্তানটি কি তাদের পৈতৃক ভিটে ফিরে পাবে, নাকি উন্নয়নের জোয়ারে তলিয়ে যাবে তাদের শেষ আশ্রয়টুকু? উত্তর এখন সময়ের হাতে।

শিরোনাম রঙ
ব্যাকগ্রাউন্ড
বর্ডার রঙ
শিরোনাম ফন্ট সাইজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *