আফজাল হোসেন বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার বাউসী ইউনিয়নের শাসনউড়া গ্রামে দুই মাস ধরে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হওয়া ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করে সংক্রমণের কারণে শিশুটির জরায়ু অপসারণ করেন। ফলে ভবিষ্যতে সে আর মা হতে পারবে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
অভিযুক্ত কিশোর নুরজামাল (১৬) একই এলাকার নিজামউদ্দিনের ছেলে এবং সম্পর্কে শিশুটির প্রতিবেশি চাচা। পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে বাড়ি ফাঁকা পেয়ে কৌশলে শিশুটিকে নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় সে। ভয় দেখানোর কারণে শিশুটি প্রথমে কাউকে কিছু জানাতে পারেনি।
শিশুটির বাবা সরিকুল ইসলাম জানান, মেয়ের পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। পরে মেয়েকে জিজ্ঞেস করলে সে নুরজামালের নির্যাতনের কথা জানায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করে সংক্রমণের কারণে তার জরায়ু কেটে ফেলতে বাধ্য হন।
ঘটনার পর স্থানীয় একটি মহল বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরিবারকে মামলা না করার জন্য চাপ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শিশুটির বাবা। তবে তিনি জানান, বাড়ি ফিরে থানায় মামলা করবেন।
এদিকে বারহাট্টা থানার ওসি নাজমুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
